মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরান যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে কঠিন সময় পার করছে। সাম্প্রতিক সংঘাতের ক্ষয়ক্ষতি, তেলের আয় কমে যাওয়া এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে দেশটির অর্থনীতি বড় চাপের মুখে পড়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলায় দেশটির শিল্প ও অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, এই ক্ষতির পরিমাণ দেশের বার্ষিক বাজেটের তুলনায় অনেক বেশি।
জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনডিপি আশঙ্কা করছে, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে আরও প্রায় ৪১ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের নিচে নেমে যেতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র-এর নৌ অবরোধের কারণে ইরানের তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে দেশের প্রধান আয়ের উৎসে বড় ধাক্কা লেগেছে। কিছু তেলবাহী জাহাজ অবরোধ এড়িয়ে গেলেও সামগ্রিক আয় কমে গেছে।
দেশটির বাজারে মূল্যস্ফীতি দ্রুত বেড়েছে। খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় মুদ্রার মানও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক হামলায় হাজার হাজার শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ১০ লাখ মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছে। অনলাইনভিত্তিক ব্যবসাগুলোও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।
একই সঙ্গে খরা ও পানির সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। টানা কয়েক বছর ধরে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধের ক্ষতি ও অর্থনৈতিক চাপ মিলিয়ে ইরানের সামগ্রিক অবস্থা আরও সংকটময় হয়ে উঠেছে।