শ্বশুরবাড়িতে জামাতার মৃত্যু, স্ত্রীসহ শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে মামলা
দোয়ারাবাজারে জামাতার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় শ্বশুরবাড়িতে এক ব্যক্তির রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী, শ্বশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
রোববার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের মামনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত বাতির মিয়া (৪৫) একই ইউনিয়নের গুজাউরা গ্রামের হুরমত আলীর ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার খবর পেয়ে দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম তালুকদারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের স্ত্রী রুবেনা আক্তার (২৫) ও শাশুড়ি খাইরুন নেছা (৫৫)কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে নিহতের স্ত্রী রুবেনা আক্তার, শ্বশুর আনফর আলী ও শাশুড়ি খাইরুন নেছার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই বাতির মিয়া স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছিলেন। গত কয়েকদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল। ঘটনার দিন সকালেও তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্ত্রী প্রথমে দাবি করেন, বাতির মিয়া গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। পরে তাকে দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তবে চিকিৎসকদের কাছে শুরুতে অসুস্থ হয়ে পড়ে যাওয়ার কথা বলা হলেও, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বক্তব্যে অসংগতি দেখা দেয়, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যজনক করে তোলে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।






