দানই আল্লাহর নৈকট্যের সিঁড়ি
কৃপণ মনোভাব মানুষকে আল্লাহর নৈকট্য থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
আহমদ বিলাল খান, লেখক ও গবেষক

মানুষের চরিত্রের ভেতর দুটি বিপরীত স্রোত একটি কৃপণতার অন্ধকার, অন্যটি দানের আলোকিত প্রবাহ। ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে এই দুই স্রোতের মধ্যে দানশীলতাই মানুষের হৃদয়কে আল্লাহর দিকে টেনে নিয়ে যায়, আর কৃপণতা তাকে দূরে সরিয়ে দেয়।
কৃপণ মানুষ যেন নিজের চারপাশে এক অদৃশ্য দেয়াল তুলে নেয়। সেই দেয়ালের ভেতরে থাকে সম্পদের গর্ব, কিন্তু থাকে না শান্তি। সে দিতে জানে না, তাই পেতেও জানে না অন্তরের প্রশান্তি। আল্লাহর পথে ব্যয়ের কথা এলে তার হৃদয় সংকুচিত হয়ে যায়, আর জীবনের আনন্দও ধীরে ধীরে মলিন হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে দানশীলতা যেন এক উন্মুক্ত আকাশ। যেখানে মেঘের মতো সম্পদ ঝরে পড়ে মানুষের কল্যাণে। দান শুধু অর্থের নয়, এটি হৃদয়ের প্রসারতা এবং মানবতার প্রকাশ। যে হাত দেয়, সে হাত আল্লাহর রহমতের আলোয় ভরে ওঠে।
পবিত্র কোরআন ও হাদিসে দানের প্রতি যে আহ্বান এসেছে, তা কেবল বিধান নয়, এটি একটি জীবনদর্শন। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, যারা তাঁর পথে ব্যয় করে, তিনি তাদের সম্পদ সংকুচিত করেন না; বরং অদৃশ্য বরকতে তা বাড়িয়ে দেন, যা চোখে দেখা যায় না কিন্তু হৃদয়ে অনুভব করা যায়।
রাসূলুল্লাহ ﷺ ছিলেন দানশীলতার জীবন্ত কবিতা। তাঁর হাতে কখনো কোনো প্রার্থনাকারী খালি ফিরত না। তাঁর জীবন যেন এক নীরব উপন্যাস, যেখানে প্রতিটি অধ্যায়ে লেখা ছিল মানবতার জয়গান। সাহাবায়ে কেরামও সেই আলোয় নিজেদের জীবন রাঙিয়ে তুলেছিলেন।
কবি ও সাহিত্যিকদের ভাষায় বলা যায়, কৃপণতা হলো বন্ধ দরজার নিঃশব্দ কান্না, আর দানশীলতা হলো উন্মুক্ত জানালার ভেতর দিয়ে আসা সকালের আলো। একটি হৃদয়কে ছোট করে, অন্যটি হৃদয়কে আকাশের মতো বিস্তৃত করে।
আজকের সমাজে তাই প্রয়োজন কৃপণতার সংকীর্ণতা ভেঙে দানশীলতার মহিমা ছড়িয়ে দেওয়া। কারণ দান শুধু সম্পদ নয়, এটি আত্মার মুক্তি, হৃদয়ের প্রশান্তি এবং আল্লাহর নৈকট্যের নীরব সেতুবন্ধন।
সবশেষে বলা যায়, কৃপণতা মানুষকে আল্লাহ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, আর দানশীলতা তাকে টেনে নেয় রহমতের আলো, ভালোবাসার গভীরে।





