খাদ্যে ক্ষতিকর উপাদান জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি: প্রতিমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি।
শনিবার (৯ মে) রাজধানীর ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে বাংলাদেশ সোসাইটি ফর সেফ ফুড (বিএসএসএফ) আয়োজিত “ইনশিউরিং সেফ ফুড ফর আ সাসটেইনেবল ফিউচার” প্রতিপাদ্যভিত্তিক ৮ম জাতীয় বৈজ্ঞানিক সম্মেলন ‘ফুড সেফটি অ্যান্ড হেলথ’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়, বরং এটি সমাজের প্রতিটি মানুষের সম্মিলিত দায়িত্ব। খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের প্রতিটি ধাপে সচেতনতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে খাদ্যে ভেজাল, ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান এবং অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি সতর্ক করে বলেন, খাদ্যে ক্ষতিকর উপাদান ও অ্যান্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে। এর ফলে নানা ধরনের জটিল রোগ বাড়ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও উদ্বেগের কারণ। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কঠোর নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু আরও বলেন, দেশে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করতে গবেষণার গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। গবেষণালব্ধ তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে হবে। পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তাকে টেকসই করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পূরণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য সরকার নিরাপদ, পুষ্টিকর ও টেকসই খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষক, বিজ্ঞানী ও সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
মাদক সমস্যার প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাদক বর্তমানে দেশের অন্যতম বড় সামাজিক সংকটে পরিণত হয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষায় পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একযোগে কাজ করতে হবে। সচেতন নাগরিকদেরও এ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সোসাইটি ফর সেফ ফুড (বিএসএসএফ)-এর সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. খালেদ হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
এছাড়া সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের সভাপতি মোশিউর রহমান।
সম্মেলনের প্রতিপাদ্যের ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের সাবেক সদস্য পরিচালক (মৎস্য বিভাগ) ড. মো. মনিরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক, শিক্ষক, বিজ্ঞানী, খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট খাতের পেশাজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।





