পুলিশের পেশাদারিত্ব ও জনআস্থার সম্পর্ক জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং ও মাদকের বিস্তার রোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপের তাগিদ।
নিজস্ব প্রতিবেদক

গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা টিকিয়ে রাখতে স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ও মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশকে আরও কার্যকর ও পেশাদার ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৯ মে) পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। বিবৃতিতে বাংলাদেশ পুলিশের বর্তমান ও সাবেক সদস্যদের প্রতি শুভেচ্ছাও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময় পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক ধারায় অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে। এতে জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। জনগণ এখন গুম, অপহরণ ও ভয়ের সংস্কৃতিমুক্ত একটি নিরাপদ সমাজ প্রত্যাশা করে, যেখানে অবিচার, অনাচার ও নির্যাতনের কোনো স্থান থাকবে না। এ ধরনের পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর, বিশেষ করে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুলিশের কোনো বিকল্প নেই। জনগণের সঙ্গে আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারলে পুলিশের দায়িত্ব পালন আরও সহজ ও কার্যকর হয়ে ওঠে।
তারেক রহমান বলেন, একটি পেশাদার, দক্ষ ও দায়িত্বশীল পুলিশ বাহিনী রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও জনগণের আস্থা রক্ষায় অপরিহার্য। পুলিশ সপ্তাহ শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি নিজেদের দায়িত্ব ও জনআস্থার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় জীবনের প্রতিটি সংকট ও প্রয়োজনে তারা পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় প্রেক্ষাপটেও পুলিশের কার্যকর ভূমিকা একটি অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়তা করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশ পুলিশ সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে তাদের গৌরবোজ্জ্বল অংশগ্রহণ বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে। তবে পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় পুলিশের আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।
সবশেষে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অপরাধ দমন এবং জাতীয় অগ্রগতির সঙ্গে পুলিশের উন্নয়ন ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। তাই পুলিশের উন্নয়নে বিনিয়োগকে জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় অগ্রগতির অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।





