কুরআন-হাদিসের অপব্যাখ্যা ও বিভ্রান্তিকর বক্তৃতা ইসলামি সমাজ প্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা: আল-ইসলাহ সভাপতি
ইসলামি সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় বিভ্রান্তি ও অপব্যাখ্যা রোধের গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্য রাখছেন মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী।
নিজস্ব প্রতিবেদক

‘কুরআন-হাদিসের অপব্যাখ্যা এবং বিভ্রান্তিকর বক্তব্য বন্ধ না হলে দেশে প্রকৃত ইসলামি সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়’, বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহর কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী। তিনি বলেন, এক শ্রেণির স্বার্থান্বেষী আলেম নামধারী ব্যক্তি ধর্মকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে সমাজে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, যা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা ও মূল্যবোধের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শনিবার (৯ মে) সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার গোয়ালাবাজারের একটি পার্টি সেন্টারে উপজেলা আল ইসলাহ আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী বলেন, যারা শরিয়াহভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনার স্বপ্ন দেখেন, তাদের আগে আউল-ফাউলদের বক্তব্য নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ইসলামের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে যারা গরু চুরি, পরকীয়া কিংবা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত, তারা ইসলামের কল্যাণ করতে পারে না।
তিনি বলেন, সমাজে ধর্মীয় মূল্যবোধের অবক্ষয় উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বোর্ডিংয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে মসজিদের মুসল্লিরাও নিরাপদ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমাজকে এই অপসংস্কৃতি থেকে মুক্ত করাই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অনুসারীদের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় কিছু আলেমের দ্বিমুখী আচরণের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যাঁকে একসময় ‘সুদখোর’ বলা হয়েছে, ক্ষমতার লোভে আজ তাঁকেই ‘নবীর উত্তরসূরি’ বলা হচ্ছে। ভোটের স্বার্থে মানুষের কাছে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করা হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু ‘দুনিয়াদার আলেম’ টাই পরাকে জায়েজ করতে কুরআনের অপব্যাখ্যা দিচ্ছে এবং সুদের পক্ষেও অবস্থান নিচ্ছে। একটি বিশেষ চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শুকরের গোশতকে হালালের কাছাকাছি নেওয়ার অপচেষ্টা চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মাদরাসা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় পরিচয় মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে দাবি করে তিনি বলেন, মাদরাসার ছাত্রদের মাথা থেকে টুপি খুলে নেওয়া হচ্ছে। এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিটি মসজিদকে দুর্গে পরিণত করতে হবে।
ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (রাহ.)-এর অবদান স্মরণ করে তিনি বলেন, আউলিয়ায়ে কেরামের মাধ্যমেই মানুষ সহিহ ইসলাম পেয়েছে। তারা না থাকলে কবর জিয়ারতকেও শিরক বা পূজা হিসেবে আখ্যায়িত করা হতো। তিনি বিপথগামীদের তওবা করে সঠিক ইসলামের পথে ফিরে আসার আহ্বান জানান।
উপজেলা সভাপতি মাওলানা এম এ রবের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল মতিন গজনবীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ আজাদ আলী।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মাওলানা এ কে এম মনোয়র আলী, ড. মাওলানা মঈনুল ইসলাম পারভেজ, মাওলানা বেলাল আহমদ, মাওলানা আবু জাফর মোহাম্মদ নোমানসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা।






