বাঘাইছড়ি পশুর হাটে ‘মলম পার্টির’ খপ্পরে দুই ব্যবসায়ী, লুট ২ লাখ ৪১ হাজার টাকা
কেমিক্যাল প্রয়োগে অজ্ঞান করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ; নিরাপত্তা জোরদারের দাবি স্থানীয়দের।
বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জমে ওঠা পশুর হাটে ‘মলম পার্টি’ নামে পরিচিত প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে দুই ব্যবসায়ী সর্বস্ব খুইয়েছেন। কৌশলে কেমিক্যাল প্রয়োগ করে তাদের অজ্ঞান করে মোট ২ লাখ ৪১ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১৩ মে) সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা গরু-ছাগল নিয়ে হাটে আসতে থাকেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়ে মুখর হয়ে ওঠে পুরো হাট। তবে এই ব্যস্ততার সুযোগ নিয়েই সক্রিয় হয়ে ওঠে প্রতারক চক্রটি।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সলিমুল্লাহ ও বিকাশ চাকমাকে প্রতারকরা কৌশলে অজ্ঞান করে তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বাঘাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দীর্ঘ সময়েও একজনের জ্ঞান না ফেরায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার পর হাটজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, পশুর হাটে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় প্রায়ই এমন প্রতারণার ঘটনা ঘটছে। খোলা মাঠে হাট বসানোর কারণে তীব্র গরমে মানুষ ও পশু উভয়েই দুর্ভোগে পড়ছে বলেও জানান তারা। অনেক পশু অতিরিক্ত গরমে দুর্বল হয়ে পড়ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়রা হাট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বৃদ্ধি, পুলিশের জন্য আলাদা চৌকি স্থাপন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা সেবার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে নাছির উদ্দিন মজুমদার জানান, এখনো কোনো ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দেননি। তবে খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ মোবাইল টিম পাঠিয়ে হাট এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে। ঈদকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য পুলিশ মাঠপর্যায়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করবে।
তিনি আরও জানান, বাজার কমিটির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতে পুলিশের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকরাও দায়িত্ব পালন করবেন। প্রথম বাজার হওয়ায় এবার পর্যাপ্ত ভলান্টিয়ার ছিল না, তবে আগামীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।






