রাঙ্গামাটির পর্যটন শিল্পের বিকাশ, পর্যটকদের সুবিধা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধানে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ। জেলা পরিষদের সদস্য ও পর্যটন করপোরেশনের আহ্বায়ক মো. হাবীব আজমের তত্ত্বাবধানে নেওয়া এসব উদ্যোগকে স্থানীয়রা পর্যটন খাতের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন।
জানা গেছে, রাঙ্গামাটির অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র ঝুলন্ত সেতু এলাকায় পর্যটকদের চলাচল সহজ ও নিরাপদ করতে নতুন ওয়াকওয়ে ও সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অপর প্রান্তে মাটির রাস্তা থাকায় বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক দর্শনার্থীরা নানা ভোগান্তির মুখে পড়তেন। পাশাপাশি সেখানে আধুনিক মানের ওয়াশরুম নির্মাণের ফলে পর্যটকদের দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা দূর হয়েছে।
স্থানীয় উদ্যোক্তা মনোয়ারা বেগম বলেন, আগে ঝুলন্ত সেতুর ওই অংশে চলাচল করতে অনেক কষ্ট হতো। এখন ওয়াকওয়ে নির্মাণের ফলে পর্যটকরা নিরাপদে চলাচল করতে পারছেন।
এদিকে রাঙ্গামাটি শহরের প্রবেশমুখ শিমুলতলী এলাকায় নির্মিত হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম আন্তর্জাতিক মানের ভিউ টাওয়ার। কাপ্তাই হ্রদ ও পাহাড়ি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ থাকায় এটি নতুন পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে।
শিমুলতলী এলাকার বাসিন্দা মেহেদী হাসান বলেন, ভিউ টাওয়ারটি চালু হলে এ অঞ্চলে পর্যটক বাড়বে এবং স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য সাজেক ভ্যালিতেও বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। পর্যটন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হোটেল, রিসোর্ট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য লাইসেন্সিং কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি পার্কিং সুবিধা, গার্ড ওয়াল এবং সড়ক উন্নয়ন কাজের ফলে পর্যটকদের যাতায়াত আরও সহজ ও নিরাপদ হয়েছে।
বাঘাইছড়ির ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বলেন, লাইসেন্সিং কার্যক্রম চালুর ফলে সাজেকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন নিয়ম-শৃঙ্খলার আওতায় এসেছে।
পর্যটন খাতে দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো ‘ট্যুর গাইড অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট’ শীর্ষক মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ প্রশিক্ষণ স্থানীয় তরুণদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি পর্যটকদের মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
এসোসিয়েশন অব হিল ট্যুরিস্ট গাইড রাঙ্গামাটির সাধারণ সম্পাদক মো. তাজুল ইসলাম তাজ বলেন, পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে দক্ষ গাইড তৈরির উদ্যোগ সময়োপযোগী এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে নৌপথে যাতায়াতকারী যাত্রী ও পর্যটকদের সুবিধার্থে শহরের ফিশারিঘাট এলাকায় আধুনিক যাত্রী ছাউনি ও ওয়াশরুম নির্মাণ করা হয়েছে। এই ঘাট দিয়ে লংগদু ও বাঘাইছড়ি উপজেলার বিপুলসংখ্যক যাত্রী প্রতিদিন যাতায়াত করেন।
লংগদুর বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, যাত্রী ছাউনি ও স্যানিটেশন সুবিধা চালু হওয়ায় সাধারণ মানুষ ও পর্যটক উভয়েই উপকৃত হচ্ছেন।
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মো. হাবীব আজম বলেন, পরিকল্পিত উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পর্যটকবান্ধব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রাঙামাটিকে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটনসংশ্লিষ্টদের মতে, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং সেবার মানোন্নয়নের এসব উদ্যোগ রাঙামাটির পর্যটন শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।