ঐতিহাসিক গুরুত্ব, পাহাড়ঘেঁষা স্বচ্ছ জলধারা আর সবুজ প্রকৃতির অপূর্ব মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাঁশতলা পর্যটনকেন্দ্র আজ হারাতে বসেছে তার পুরোনো জৌলুস। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এই পর্যটন স্পটটি একসময় ভ্রমণপিপাসুদের প্রাণকেন্দ্র হলেও দীর্ঘদিনের অবহেলা, সংস্কারের অভাব ও জরাজীর্ণ অবকাঠামোর কারণে দিন দিন কমে যাচ্ছে দর্শনার্থীর সংখ্যা।
দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধের ৫ নম্বর সেক্টরের ঐতিহাসিক বাঁশতলা। মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া অনেক মুক্তিযোদ্ধাকে এখানে সমাহিত করা হয়েছে। রয়েছে দৃষ্টিনন্দন স্মৃতিসৌধ, সুইচ গেইট, পাহাড়ি ঝরনার স্বচ্ছ পানি আর ঝুমগাঁও পাহাড়ি টিলায় আদিবাসীদের পরিচ্ছন্ন জীবনচিত্র। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য আর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মিলিয়ে এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে পরিচিত।
মঙ্গলবার (১২ মে) সরেজমিনে দেখা যায়, ভারতের খাসিয়া-জৈন্তিয়া পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এই পর্যটনকেন্দ্রটি তিন দিক থেকে মেঘালয় পর্বতমালা দ্বারা বেষ্টিত। পাহাড় থেকে নেমে আসা চেলাই খালের স্বচ্ছ জলরাশি, সবুজ বনাঞ্চল, পাখির কলরব আর নির্জন পরিবেশ পর্যটকদের সহজেই মুগ্ধ করে। বিকেলের দিকে বাঁশতলার প্রকৃতি যেন আরও বেশি নীরব ও রহস্যময় হয়ে ওঠে। খালের পাড়ে বসলে মনে হয় প্রকৃতি নিজেই পথ দেখিয়ে নিচ্ছে।
তবে বর্তমানে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। আগে যেখানে প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থীর ভিড় থাকত, এখন সেখানে মানুষের উপস্থিতি খুবই কম। সুইচ গেইটের পানিতে আর কেউ গোসল করতে নামে না, ঝুমগাঁও পাহাড়ি টিলাতেও কমে গেছে ভ্রমণকারীদের আনাগোনা। শহীদ মিনার এলাকাও পড়ে আছে অনেকটা নির্জন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও আইনজীবী আব্দুল কাইয়ুম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনের সময় অনেকেই নানা প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু পরে আর কেউ খোঁজ নেন না। একসময় এই পর্যটনকেন্দ্রে মানুষের ব্যাপক ভিড় হতো। এখন অবহেলা আর সংস্কারের অভাবে এটি ধ্বংসের পথে। জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন আন্তরিক হলে আবারও প্রাণ ফিরে পাবে বাঁশতলা।
প্রকৃতিপ্রেমী ও সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের অবহেলার কারণেই উপজেলার একমাত্র সম্ভাবনাময় এই পর্যটন স্পটটি ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং পর্যটকবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে বাঁশতলা সিলেট অঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরুপ রতন সিংহ বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের ৫ নম্বর সেক্টর বাঁশতলায় প্রকৃতিপ্রেমীদের আকর্ষণ বাড়াতে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হবে।